২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর, সরকারের উপদেষ্টা মণ্ডলীর এক বৈঠকে Council of Advisers (CA) চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করেছে National Human Rights Commission Ordinance 2025। এর ফলে NHRC-কে ঘোষণা করা হয়েছে যে এটি এখন দেশের জন্য একটি জাতীয় প্রতিরোধী মেকানিজম (Optional Protocol to the Convention against Torture and Other Cruel, Inhuman or Degrading Treatment or Punishment — OPCAT) হিসেবে কাজ করবে।
এই নতুন আইন–সংশোধনের মাধ্যমে, NHRC–কে দেশের সরকারি ও দণ্ডবাহিনী, কারাগার, থানা বা যেকোনো আটক কেন্দ্রসহ যেকোনো detention center পরিদর্শন করার, গোপন বন্দী বা গুম–সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত করার, এবং আন্তর্জাতিক মানের নির্যাতন প্রতিরোধ বাধ্যবাধকতার আওতায় কার্যকর হওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আটক ও গ্রেপ্তারের পর গুম, সরকারি নির্যাতন, গোপন কারাগার, এবং তদন্তহীনতার অভিযোগ উঠে আসছে। এগুলোর জন্য প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও নিরপেক্ষ তদন্ত ব্যবস্থার অভাব ছিল।
NHRC-এর ক্ষমতা সম্প্রসারণ এবং OPCAT–ভিত্তিক দায়বদ্ধতা এই পরিস্থিতি পরিবর্তনের একটি ন্যূনতম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এটি যদি কার্যকর হয়, তাহলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নজরদারির আওতায় আনা সম্ভব হবে, নাগরিকদের মানবাধিকার সুরক্ষা শক্তিশালী হবে, বিচার–পূর্ব অনিশ্চয়তা ও নির্যাতনের ভয় কমে আসবে।
এছাড়া, এটি একটি সংকেত—গত বছরের ঘটনা, আন্দোলন, গুম, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনবিরোধী নতুন রাজনৈতিক চেতনা এবং প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।
গণতন্ত্র এবং সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারের প্রেক্ষাপটে, NHRC-এর শক্তিবৃদ্ধি এই নতুন চেতনাকে সমর্থন করে।
নতুন সংজ্ঞায়িত ক্ষমতার মধ্যে রয়েছেঃ গোপন বা সরকারি যেকোনো কারাগার বা আটককেন্দ্র নির্বিঘ্নে পরিদর্শনের অধিকার। গুম বা বলপ্রয়োগের অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত, এবং বিচার প্রক্রিয়া দ্রুততর করার জন্য প্রস্তাবিত আইন,Enforced Disappearance Prevention and Redress Ordinance 2025–এর অধীনে কাজ করার ক্ষমতা।
শুধু তদন্ত নয় ফৌজদারি প্রক্রিয়া, প্রতিকার, ক্ষতিপূরণ, ভুক্তভোগী সুরক্ষা ইত্যাদির দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাবনাও রয়েছে।
সাংগঠনিক স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য কাঠামোগত পরিবর্তন। এর মাধ্যমে ২০০৯ সালের পুরনো আইন প্রতিস্থাপিত হচ্ছে।
যদিও এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবুও সমালোচনাও রয়েছে:
Transparency International Bangladesh (TIB) সতর্ক করেছে যে বর্তমান খসড়া অধ্যাদেশে কিছু ধারায় এমন provision আছে যা কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে বাধা দিতে পারে বা কার্যকারিতা সীমিত করতে পারে।
আইনজ্ঞরা বলছেন—
ভবিষ্যতে কার্যকরভাবে মামলা, আদালত বা বিচারাধীন প্রক্রিয়া শুরু করতে আরও আইনগত স্পষ্টতা প্রয়োজন, কারণ কিছু ধারা এখনও অস্পষ্ট।
প্রশাসনিক স্বার্থ, স্বাস্থ্য, রাজনৈতিক চাপ, এবং বিকল্প শক্তি ব্যবস্থার অভাববাস্তবায়নকে ব্যাহত করতে পারে।
যদি NHRC তার নতুন ম্যান্ডেট অনুযায়ী কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তাহলে:
গুম, গোপন আটক, পুলিশ নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নিরাপত্তা সংস্থা ও প্রশাসনিক কারাগারগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান বজায় রাখতে বাধ্য হবে
দীর্ঘমেয়াদে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি institutional reform হিসেবে বিবেচিত হতে পারে,যা রাজনৈতিক সংস্কার, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে
NHRC–র সম্প্রসারিত ক্ষমতা এবং OPCAT যুক্ত “National Preventive Mechanism” হিসেবে পুনর্বিন্যাস — বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাব্য নতুন অধ্যায়। এটি মানবাধিকার, ন্যায়ের ভূমিকা, বিচার এবং সামাজিক বিশ্বাসের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তবে —যেকোনো আইন বা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মতো —এর সফলতা নির্ভর করবে বাস্তব রাজনৈতিক সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক স্বাধীনতা এবং জনসচেতনতার ওপর।
The Gaze BD জাতীয় ও আন্তর্জাতিক, অর্থনীতি, সমাজ, রাজনীতি এবং সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রকাশ করে। স্বচ্ছতা ও সঠিকতার মাধ্যমে পাঠকদের জন্য বিশ্বাসযোগ্য তথ্যই আমাদের অঙ্গীকার।
The Gaze Bangladesh © 2025. All Rights Reserved. Developed by SMS iT World